Showing posts with label মহাভারত স্বর্গারোহণ পর্ব -------. Show all posts
Showing posts with label মহাভারত স্বর্গারোহণ পর্ব -------. Show all posts

Friday, May 1, 2020

মহারথী কর্ণের মৃত্যু

।।কর্ণপ্রয়াগ এবং মহারথী কর্ণের মৃত্যু★ শ্রীকৃষ্ণ দ্বারা তাঁর সৎকার★।।

অলকানন্দার পাঁচ প্রয়াগ হল
◆বিষ্ণুপ্রয়াগ,
 ◆নন্দপ্রয়াগ,
◆কর্ণপ্রয়াগ,
◆রুদ্রপ্রয়াগ এবং
 ◆দেবপ্রয়াগ।

হিন্দু ধর্মমত অনুসারে এই পঞ্চপ্রয়াগ পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত। মহাভারত অনুযায়ী, এখানেই সূর্যের উপাসনা করেন কর্ণ।

এছাড়াও কর্ণপ্রয়াগ নিয়ে আরও গল্প কথিত আছে। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ চলাকালীন অর্জুন কোনও ভাবেই কর্ণকে হত্যা করতে পারছিলেন না। তাঁর কোনও বাণই কর্ণের গায়ে লাগছি না। তখন কৃষ্ণ বলেন যে কর্ণ সারাজীবন এত দান-ধ্যান করেছেন যে তাঁকে রক্ষা করছেন খোদ ধর্মের দেবতা। এই পূণ্যফল কর্ণের কাছ থেকে নিয়ে না নিলে তাঁকে হত্যা করা যাবে না।

তখন কৃষ্ণ নিজে এক ব্রাহ্মণ সেজে কর্ণের কাছে তাঁর যাবতীয় পূণ্যফল প্রার্থনা করেন। ওই ব্রাহ্মণ যে আসলে কৃষ্ণ এবং তাঁকে হত্যা করার জন্যই তাঁর কাছ থেকে পূণ্যফল চাইতে এসেছেন, এই সব কথা বুঝতে পেরেও ভিক্ষাপ্রার্থীকে খালি হাতে ফেরান না কর্ণ। তিনি ব্রাহ্মণ-রূপী কৃষ্ণকে তাঁর সব পূণ্যফল দান করেন।

এর পরিবর্তে কৃষ্ণ তাঁকে বিশ্বরূপ দর্শন করান। কর্ণ কৃষ্ণের কাছে আবেদন করেন, যাতে তিনি নিজে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন। সেই মতো অর্জুনের বাণে নিরস্ত্র কর্ণের হত্যার পরে কর্ণপ্রয়াগে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন শ্রীকৃষ্ণ।। 

মহাভারত স্বর্গারোহণ পর্ব -------

-------মহাভারত স্বর্গারোহণ পর্ব -------

কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের পর অনেক বৎসর কেটে গেলো । পঞ্চপান্ডব রা একদিন সংবাদ পেলেন যে যাদব রা সবাই নিজেদের মধ্যে মারামারি করে সবাই ধ্বংস হয়ে গেছে এবং সেই দুঃখে বলরাম ও আত্মাত্যাগ করছেন ।
পান্ডবদের সবচেয়ে বড় পরামর্শ দাতা শ্রীকৃষ্ণও জরা নামক শিকারির তীরের আঘাতে অভিশাপের কারণে মৃত্যু প্রাপ্ত হয়েছেন ।
শ্রীকৃষ্ণের মৃত্যু তে পান্ডব রা খুব ভেঙে পড়েন ।
যুধিষ্ঠির ভাবলেন তাদের প্রয়োজন এখন ফুড়িয়ে গেছে । তাই তিনি মহাপ্রস্থানের জন্য তৈরি হলেন ।
তার সাথে সাথে অন্য পান্ডব ও দ্রোপদিও তৈরি হলেন ।

তারা তাদের রাজ্য অভিমন্যু পুত্র পরীক্ষিত কে সমর্পণ করলেন ।

এবং মহাপ্রস্থানের পথে হিমালয়ের দিকে যাত্রা শুরু করলেন।

মহাপ্রস্থানের যাত্রী কখনো পিছনে ফিরে যায় না । তাই পঞ্চ পান্ডব ও দ্রোপদিও এগুতে থাকলেন সামনের দিকে ।

পথে একটি কুকুর ও তাদের অনুসরণ করে চলতে লাগলো ।

এভাবে কিছুদিন চলার পর দ্রোপদী স্থবির হয়ে পড়লেন ,,
এবং মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন ।

তখন ভীম যুধিষ্ঠির কে বললেন : হ্যাঁ  ভ্রাতা দ্রোপদি অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণ আর ধার্মিক স্ত্রী ছিলো ।তার কেন মৃত্যু হলো ?

তখন যুধিষ্ঠির বললেন ,,দ্রোপদি আমাদের সবার থেকে অর্জুন কেই অধিক ভালোবাসতো । তাই পক্ষপাতের কারণে মহাপ্রস্থানিক পথে তার মৃত্যু হলো।

দ্রোপদির মৃত্যুর কিছুদিন পর  সহদেব ও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন।
তখন ভীম যুধিষ্ঠির কে বললেন,, হ্যাঁ ভ্রাতা সহদেব অত্যন্ত সুশীল লোক ,,,তার কেন মৃত্যু হয়েছে?

জবাবে যুধিষ্ঠির বললেন , সহদেব ভাবতো তার মতো সুশীল আর জ্ঞানী জগতে আর নেই ,,,তার আত্মগর্ব ই তার মৃত্যুর কারণ

এভাবে কিছুদিন চলার পর নকুলের মৃত্যু হলো ।
ভীম ফের যুধিষ্ঠির কে জিজ্ঞেস করলেন , নকুল অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণ  তার কেন মৃত্যু হয়েছে?

ভীমের জবাবে যুধিষ্ঠির বললেন ,,,ভ্রাতা নকুল ভাবতো তার মতো সুন্দর আর সুদর্শন পুরুষ পুরু আর্যাবর্তে নেই । অহংকারের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

এবার মৃত্যু ঘটলো অর্জুনের ।
অর্জুনের মৃত্যুতে ভীম খুব দুঃখ পেলেন ।এবং বললেন ভ্রাতা
অর্জুন অত্যন্ত সুড়বীর আর মহাজ্ঞানী তার কেন মৃত্যু হয়েছে?

যুধিষ্ঠির উত্তর দিলেন : অর্জুন নিজের বীরত্ব নিয়ে অহংকার করতেন এবং তিনি কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের সময় বলেছিলেন যে একদিনেই সব সৈন্য শেষ করতে পারবেন । বাস্তবে তার দ্বারা এ কাজ কখনো সম্ভব ছিলো না ।
তাই অহংকার এর জন্য তার মৃত্যু হলো ।

চার ভাই আর দ্রোপদি কে হারিয়ে যুধিষ্ঠির ভীম চলতে চলতে অবশেষে ভীম ও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন,,,ভীম বললেন হ্যাঁ ভ্রাতা আমি সারাজীবন আমাদের পরিবারের রক্ষা কবচ ছিলাম এবং পরিবারের রক্ষা ও আপনার সেবা করেছি ,,,, আমার কেন মৃত্যু হবে?

যুধিষ্ঠির বললেন ,,ভ্রাতা ভীম ,,, তুমি ও ছিলে অর্জুনের মতোই অহংকারী । নিজের বল আর শক্তি নিয়ে খুব অহংকার করতে এবং অন্যের শক্তি আর বলকে না জেনে ই কটাক্ষ করতে

তাছাড়া তুমি কারো কথা বিবেচনা না করে ই অনেক আহার করতে
তাই তোমার মৃত্যু হবে।

এভাবে চার ভাই আর দ্রোপদি কে হারিয়ে যুধিষ্ঠির এগুতে থাকলেন দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে এবং সঙী তার কুকুর ।

মহাপ্রস্থানের যাত্রী কখনো পিছনে ফিরে তাকায় না তাই তিনি এগুতেই থাকলেন । এভাবে চলতে চলতে একসময় ইন্দ্র স্বয়ং আসলেন রথ নিয়ে যুধিষ্ঠির কে স্বর্গে নিয়ে যেতে ।
কিন্তু বাধা হলো কুকুর কে নিয়ে ।
কুকুর কে নিয়ে স্বর্গে যাওয়া যাবে না ।
কিন্তু যুধিষ্ঠির অনড় ,,,, অনেক কষ্ট করে কুকুর টি ও তার সঙ্গে এসেছে তাই ওকেও সাথে নিতে হবে ।
নাহলে তিনি ও যাবেন না ।

যুধিষ্ঠিরের এমন কার্য দেখে ইন্দ্র খুব মুগ্ধ হলেন।
বাস্তবে কুকুর টি ছিলো ধর্মরাজ।
পরে তিনি নিজের রূপ বেরিয়ে আসেন এবং যুধিষ্ঠির কে আশীর্বাদ দেন।
ইন্দ্রের রথে করে যুধিষ্ঠির স্বর্গে গেলেন । কিন্তু গিয়ে দেখলেন সেখানে তার প্রিয় ভাই আর পত্নী নেই ।

তিনি দেখলেন দূর্যোধন স্বর্গের সুউচ্চ সিংহাসন দখল করে বসে আছেন ।
তিনি এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে বলা হলো যে দূর্যোধন শেষ অবধি লড়ে গেছেন এবং একটুও বিচলিত হন নি ,,তাই তার এ প্রাপ্তি ।

কিন্তু যুধিষ্ঠির বললেন আমার ভ্রাতা রা ধর্মের জন্য যুদ্ধ করছেন ,,তারা কোথায় ।
তখন ইন্দ্র বললেন ,, তোমার ভ্রাতা রা কিছু পাপ করেছিলো, তাই তারা নরকে ,,,

যুধিষ্ঠির নরকে তাদের ভাইয়ের কাছে যেতে চাইলেন ।
এবং কেন তিনি নরক দর্শন করবেন সেটাও বলা হলো ।

ভীম যখন অশ্বথামা নামক হাতিকে মেরে ফেলে তখন তিনি গুরু দ্রোণ কে অশ্বথামা নিহত হয়েছে বলে মিথ্যা কথার চল করেছিলেন ,,তাই তার এ প্রাপ্তি ।

অবশেষে যুধিষ্ঠির নরকে গেলেন এবং দেখলেন নরকের বিভৎস দৃশ্য।

তিনি সেখানে ভীম ,,অর্জুন,, নকুল সহদেব,, দ্রোপদি কে দেখতে পেলেন ।

পাপের শাস্তি দেখে তিনি খুব ভারাক্রান্ত হলেন । এবং শ্রী হরি কে স্মরণ করলেন ।

সাথে সাথে সবার নরক যন্ত্রণা উধাও হয়ে গেলো ।

যুধিষ্ঠির এর পুন্যবলে সব পাপী মুক্তি পেলো ।

এবং তিনি তার ভাই পত্নী সবাইকে নিয়ে পুনরায় স্বর্গে মিলিত হলেন ।

জয় শ্রী কৃষ্ণ।।
হরে কৃষ্ণ।।