Showing posts with label উদ্ভব গীতা. Show all posts
Showing posts with label উদ্ভব গীতা. Show all posts
Wednesday, May 27, 2020
উদ্ভব গীতা
আজ আমি তোমাদের একটি কৃষ্ণ কথা শোনাব। এই কথার নাম হল "উদ্ভব গীতা"। ভগবান শ্রী কৃষ্ণের সারথি ছিলেন উদ্ভব। শ্রী কৃষ্ণ যখন স্বর্গে ফিরে যেতে মনস্থ করলেন তখন তিনি তাঁর সমস্ত ভক্তের মনোকামনা পূর্ণ করছেন। কিন্তু শুধু উদ্ভব ছিলেন নীরব আসক্তিহীন। উদ্ভব কিছু চাইছে না দেখে ভগবান তাকে কিছু চাইতে বললেন। উদ্ভব বলল প্রভু আমি তো আপনার কাছ থেকে কোনদিন কিছু চাইনি তবে আজ কেন চাইব? ভগবান বললেন উদ্ভব আজ তুমি না চাইলেও আমি তোমাকে কিছু দেব। না দিলে অবিচার হবে। উদ্ভব বলল বেশ তো যদি কিছু দিতেই চান তবে আমার কিছু প্রশ্নের উত্তর দিন।"কি প্রশ্ন বল উদ্ভব। আমি তোমার প্রশ্নের উত্তর অবশ্য দেব"। উদ্ভব বলল "প্রভু আপনি তো পাণ্ডব দের পরম মিত্র ছিলেন তবুও তাদের সবথেকে বড় বিপদে আপনি তাদের পাশে কেন থাকেন নি? আপনি তো দীনবন্ধু। আপনার পরম মিত্রদের পাশে দাঁড়ালে হয়তো কুরুক্ষেত্রের মহাযুদ্ধ আপনি আটকে দিতে পারতেন। মহারাজ যুধিষ্ঠির যখন পাশা খেলায় হেরে যাচ্ছিলেন তখন আপনি কেন যাননি তাঁকে সাহায্য করতে? আপনি কেন দ্রৌপদীর বস্ত্র হরণে বাধা দিলেন না?" এই প্রশ্ন শুনে ভগবান বললেন "উদ্ভব আমি তোমার প্রশ্নের উত্তর দেব তবে তার আগে তোমাকে জানতে হবে ভক্ত,ভগবান ও বন্ধুত্ব পালনের কিছু নিয়ম। যখন কোন ভক্ত আমাকে বন্ধু বলে ভাবে তখন সে মনে করে আমি তার সাথে সর্বদা থাকি। তখন সেই ভক্ত তার সব কাজের সাক্ষী মানে আমাকে। আমাকে সাক্ষী করলে কখন কোন ভক্ত কোন খারাপ কর্ম করতেই পারে না। কারণ আমি তার সাথে সর্বদা থেকে তাকে কুকর্ম থেকে বিরত রাখি। কিন্তু যখন সেই ভক্ত আমার ওপর থেকে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে অহংকারের ফলে আমার সংগ ত্যাগ করে তখন আমি নিরুপায় হয়ে যাই। আমার থেকে দুরত্ব বাড়লেই তখন সে পাপ করতে শুরু করে। অহংকারের প্রাচীর তুলে সে তখন আমাকে আড়াল করে রাখে। অসহায়ের মত দেখা ছাড়া আমার কিছুই করার থাকে না। কারণ মানুষের কর্মের ওপর ভগবানের কোন অধিকার নেই। এটাই জগৎের নিয়ম। মানুষ স্বাধীন জীব।শুধু মানুষ কেন জগৎের সমস্ত জীবই স্বাধীন। মানুষ তো আরও স্বতন্ত্র। তার বিবেক,বুদ্ধি,মনুষ্যত্ব আছে। তাই তার স্বাধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ ভগবান ও করতে পারেন না। মোহ, মায়া ও অহংকারের বশীভূত হয়ে বাসনাসক্ত মানুষ পাপের বোঝা বাড়িয়ে চলে। এবার তোমার প্রশ্নের উত্তর দেব উদ্ভব। যুধিষ্ঠির যখন পাশা খেলার জন্য শকুনির আমণ্ত্রণ গ্র হণ করল তখন সে আমাকে জানায় নি। কারণ সে জানত পাশা খেলায় আমি বাধা দেব। যখন আমি জানতে পারলাম সেই কথা তখন সে আমাকে দিব্য দিয়ে আমাকে অসহায় করে দিল। যুধিষ্ঠির অহংকার অতি আত্মবিশ্বাসের দ্বারা চালিত হয়ে পাশা খেলতে গেল। যুধিষ্ঠির আমাকে দ্যূত ক্রীড়াস্থলে প্রবেশ করতে নিষেধ করেছিল। ভাব তো উদ্ভব যদি শকূনির সাথে আমি পাশা খেলতাম তাহলে খেলার পরিণাম কি হতো? পঞ্চ পাণ্ড ব কি সব কিছু হারিয়ে নিলামে উঠত? দ্রৌপদীর বস্ত্র হরণ কি হতো? দুঃশাসন যখন দ্রৌপদীর কক্ষে গিয়ে তাকে অপমান করতে লাগল,তার কেশ আকর্ষ ণ করে তাকে সভাকক্ষে টেনে নিয়ে এল তখনও দ্রৌপদী আমাকে ডাকেনি। আমার কথা তখন তার মনেই ছিল না। যখন শেষ মুহূর্তে সম্মান রক্ষার জন্য এক ফালি বস্ত্র অংগে ছিল না তখন সে আমাকে স্মরণ করল। আমার প্রিয় সখী আমাকে স্মরণ করছে এক্কেবারে শেষ মুহূর্তে। ডাকা মাত্রই আমি দ্রৌপদীর কাছে গিয়ে তার সম্মান রক্ষা করেছি। অর্জুন, ভীম,নকুল,সহদেব যখন তারা সবাই দুর্যোধনের কাছে নিলাম হয়ে যাচ্ছিল তখন তারা কেউ আমাকে সাহায্যের জন্য ডাকেনি। দ্রৌপদীর স্মরণ মাত্রই আমি দীনবন্ধুর মত সূক্ষ্ম শরীরে হাজির হয়ে তাকে সাহায্য করেছিলাম উদ্ভব। তাহলে এবার বল আমার দোষ কোথায়?" উদ্ভব বলল "আমি বুঝেছি প্রভু আপনার বিস্মরণ মানে হল আমার মরণ। তাই প্রভু আপনি আমাকে আশীর্বাদ করুন আমি যেন এক মুহূর্ত আপনাকে না ভুলে যাই।" ভগবান আশীর্বাদ করে বললেন "তথাস্তু"।শ্রী কৃষ্ণ আরও বললেন "উদ্ভব তোমার আর আমার এই কথোপকথন পৃথিবীতে উদ্ভব গীতা নামে অমর হয়ে থাকবে।অমর হয়ে থাকবে তোমার নাম ও"।
উদ্ভব গীতা
:উদ্ভব গীতা:
ভগবান শ্রী কৃষ্ণের সারথি ছিলেন উদ্ভব।তিনি কৃষ্ণ ভক্তদের মধ্যেও অন্যত ম ছিলেন। আজীবন নিস্বার্থভাবে শ্রী কৃষ্ণের সেবা করে গেছেন। শ্রী কৃষ্ণের কাছ থেকে তার ভক্ত, মিত্র, পাত্র, আত্মীয়, সভাসদ, অমাত্য সকলেই কত কিছু আদায় করে নিয়েছেন। কিন্তু শুধু উদ্ভব ব্যতিক্রম ছিল। সে কোনদিন প্রভুর কাছ থেকে কিছু চায়নি। তাই শ্রী কৃষ্ণ যখন দেখলেন যে তার মর্ত্য লোক ছেড়ে গোলক ধামে ফিরে যাবার সময় হয়েছে তখন তাঁর প্রিয় ভক্ত তথা সারথি উদ্ভব কে আদেশ করলেন কিছু চাইবার জন্য। উদ্ভব বলল, "প্রভু আমি সেবক ও ভক্ত মানুষ। আমার আত্ম জ্ঞান ছাড়া আর কোন পার্থিব দ্রব্য চাই না। তবে যদি কিছু দিতে চান তাহলে আমার কিছু প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যান।" প্রভূ বললেন " কি প্রশ্ন বল উদ্ভব।" উদ্ভব বলল " আপনি পান্ডবদের পরম মিত্র হওয়া সত্ত্বেও তাদের সব থেকে বড় বিপদে কেন পাশে থাকেন নি? আপনি তো দীনবন্ধু। আপনি সেদিন তাদের পাশে থাকলে তাদের অপমানিত হতে হত না। সব কিছু হারাতে হত না। দ্রৌপদীর বস্ত্র হরণ হত না। হত না কুরুক্ষেত্রের মহাযুদ্ধ। বেঁচে যেত বহু বীর যোদ্ধা, রথী, মহারথী। মহারাজ যুধিষ্ঠির যখন পাশা খেলায় হেরে যাচ্ছিলেন তখন কেন আপনি যান নি তাকে সাহায্য করতে? পঞ্চ পান্ড ব এমনকি দ্রৌপদীও যখন নিলামে উঠছেন তখন আপনি বাধা দেন নি কেন?" প্রভু এই প্রশ্ন শুনে বললেন "উদ্ভব আমি তোমার সব প্রশ্নের উত্তর দেব। তবে তার সাথে জেনে রাখ আরও কিছু কথা। যখন কোন ভক্ত আমাকে তার বন্ধু বলে ভাবে তখন সে মনে করে আমি তার সাথে সর্বদা আছি। সে তখন আমাকে তার সব কাজের সাক্ষী রাখে। আমাকে সাক্ষী রাখলে, বন্ধু ভাবলে কোন ভক্ত কখনও কোন কু কর্ম করতেই পারে না। কারণ আমি তাকে সর্বদা ধর্মের পথে নিয়ে চলি। ধর্ম রক্ষাই যে আমার কাজ উদ্ভব। কিন্তু সেই ভক্ত যখন আমার উপর থেকে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে, যখন সে মোহগ্রস্ত হয়ে পাপ কর্ম করে তখন সে ভুলে যায় আমাকে। অহংকারের মিথ্যা প্রাচীর তুলে সে আমাকে আড়াল করে রাখে। আমার কথা তার স্মরণ না থাকায় আমি তার সাথে থাকলেও সে আমার সাথে থাকে না। আমাদের মধ্যে বাড়ে দুরত্ব। অসহায়ের মতো দেখা ছাড়া আমার তখন আর কিছুই করার থাকে না। কারণ মানুষের কর্মের উপর আমার কোন অধিকার নেই। শুধু মানুষ কেন এই সমগ্র সৃষ্টির সমস্ত জীবই স্বাধীন , স্বতন্ত্র। জীবের কর্মে হস্তক্ষেপ করার অধিকার ভগবানের নেই। এটাই ভগবানের অসহায়তা উদ্ভব। আমি চাইলেও কামাসক্ত, বাসনাসক্ত, অহংকারী, বিবেক হীন মানুষকে পাপের পথ থেকে ফেরাতে পারি না। ঠিক যেমন করে পারিনি যুধিষ্ঠির কে বাধা দিতে।যুধিষ্ঠির জানত যে পাশা খেলায় আমি বাধা দেব। তাই সে আমাকে না জানিয়েই শকুনির আমণ্ত্রণ স্বীকার করেছিল। আমি পরে জানতে পেরে বাধা দিতে গেলাম ঠিক তখন যুধিষ্ঠির আমাকে " দিব্যি" দিয়ে বিবশ করে দিল। যুধিষ্ঠির বলেছিল, "বাসুদেব তুমি পাশা খেলা চলাকালীন ক্রীড়াকক্ষে প্রবেশ করবে না।আমি তোমাকে মহাদেবের দিব্যি দিলাম।" যুধিষ্ঠির তখন অহংকার ও অধিক আত্ম বিশ্বাসের দ্বারা চালিত হয়ে পাশা খেলতে গেল।হয়তো আমাদের বন্ধুত্বের উপর থেকে যুধিষ্ঠিরের তখন বিশ্বাস হারিয়ে গেছিল। বল উদ্ভব, আমি কি বন্ধুত্বের অমর্যাদা করেছিলাম? ভাব তো তুমি একবার শকুনির সাথে আমি পাশা খেললে কি পরিণাম হতো? তাহলে কি কুরুক্ষেত্রের মহাযুদ্ধ হতো? মহাযুদ্ধের সেই সর্বগ্রাসী মহাবিনাশের জন্য আমি কি দায়ী ছিলাম? গান্ধারীর অভিশাপ কি আমি পেতাম? তার এই অভিশাপে আমার প্রাণের দ্বারকা নগরী আর যদুবংশ কি ধ্বংস হতো? আমার হাতে পাশা থাকলে কি পঞ্চপান্ড ব সব হারিয়ে নিলামে উঠত? আমার প্রিয় সখী দ্রৌপদীর কি বস্ত্র হরণ হতো? যুধিষ্ঠির দান হারার সময় ও তো আমাকে ডাকতে পারত। তার ভাইরা একে একে যখন নিলামে উঠছে তখন ও কেউ আমাকে ডাকেনি। এমনকি দুঃশাসন যখন পাঞ্চালীর কেশ আকর্ষ ন করে সভায় নিয়ে এসে অপমান করছিল তখন ও সখী আমাকে ডাকেনি। শেষ মুহুর্তে যখন লজ্জা নিবারণের উপায় ছিল না তখন আমাকে স্মরণ করেছিল।আমি তৎক্ষণাৎ সুক্ষ্ম দেহে উপস্থিত থেকে দ্রৌপদীর মান রক্ষা করেছি। বল উদ্ভব আমার কি দোষ ছিল? বন্ধুত্ব রক্ষার দায় কি শুধু একা শ্রী কৃষ্ণের ছিল? ভক্ত ও ভগবানের সম্পর্ক রক্ষা করার দায়িত্ব কি শুধু ভগবানের?" উদ্ভব সব শুনে বলল, " আমি বুঝেছি প্রভু আপনার বিস্মরণ মানে মানবের মরণ। আপনাকে ভুলে গিয়ে মহারাজ যুধিষ্ঠিরের যদি এত দুর্গতি হয় তাহলে আমার মতো মানুষের কি গতি হবে তা আমি অনুধাবন করতে পেরেছি প্রভু। আমাকে আশীর্বাদ করুন আমি যেন আপনাকে কখনও ভুলে না যাই। আপনি ভক্ত বৎসল । এই অধম ভক্ত কে রক্ষা করুন প্রভু। প্রভু বললেন, "তোমার আর আমার এই কথোপকথন আজ থেকে " উদ্ভব গীতা" নামে পৃথিবীতে অমর হয়ে থাকবে
Subscribe to:
Posts (Atom)