Showing posts with label কলি যুগ. Show all posts
Showing posts with label কলি যুগ. Show all posts

Friday, May 1, 2020

ষোল সোমবার ব্ৰত।।

ষোল সোমবার ব্ৰত।।

ব্রতকথা●●

★★ষোলো সোমবার ব্রত চালু হওয়ার মূলে একটি গল্প প্রচলিত আছে। আসলে সেটি একটি গল্প না বলে গল্পের সম্ভার বলা যায়। একবার নাকি শিব পার্বতীকে নিয়ে ঘুরতে গেছেন মৃত্যুলোকে। সেখানে মৃত্যুপুরীর রাজা তাঁর জন্য সুন্দর একটি প্রাসাদ বানিয়ে রেখেছিলেন এবং শিব-পার্বতী ওখানেই ছিলেন। এক দিন পার্বতী বললেন, তাঁর পাশা খেলতে ইচ্ছে করছে। পাশা খেলার ব্যবস্থা করা হল। সেই সময়ে সেখানে এসে উপস্থিত হলেন এক মন্দিরের পুরোহিত। পুরোহিতকে পার্বতী জিজ্ঞাসা করলেন কে জিতবে এই খেলায়। পুরোহিত কিছু না জিজ্ঞাসা করেই উত্তর দিলেন, মহাদের জিতবেন। কিন্তু খেলার শেষে জিতলেন পার্বতী। তখন পার্বতী রেগে গিয়ে মিথ্যা বলার অপরাধে পুরোহিতকে কুষ্ঠ রোগী হওয়ার অভিশাপ দিলেন।

অনেক দিন পর সেই মন্দিরে কিছু অপ্সরা এলেন আর পুরোহিতের এই অবস্থা দেখে এর কারণ জানতে চাইলেন। পুরোহিত সব বলায় অপ্সরারা তাঁকে ষোলো সোমবারের ব্রত করতে বললেন। এই প্রথম একজন ষোলো সোমবারের ব্রত শুরু করলেন। ভোলানাথের আশীর্বাদে পুরোহিত সুস্থ হয়ে গেলেন। এই ঘটনা জেনে পার্বতী তো অবাক হয়ে গেলেন। তাঁর দেওয়া অভিশাপ কীভাবে খণ্ডিত হল! তিনি পুরোহিতকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন আর জানলেন ষোলো সোমবারের কথা। সব জেনে পার্বতীও ঠিক করলেন ষোলো সোমবার করার কথা।

এরপর এই ব্রতের কথা পার্বতীর থেকে জানতে পারেন কার্তিক। কার্তিক সেই কথা তাঁর এক ব্রাক্ষ্মণ বন্ধুকে বলেন। ব্রাক্ষ্মণ বন্ধুও তখন এই ব্রত করার সিদ্ধান্ত নেন এবং নিষ্ঠাভরে পালন করেন। এক সময়ে সেই বন্ধু এক দেশে যান, যেখানে সেই দেশের রাজার কন্যার স্বয়ম্বর হচ্ছিল। স্বয়ম্বরের নিয়ম ছিল, সভায় থাকা হাতি যার গলায় মালা দেবেন তিনিই হবেন রাজার জামাই। হাতি সেই ব্রাক্ষ্মণ সন্তানের গলায় মালা দিল। আর তিনি পেয়ে গেলেন রাজকন্যা আর রাজ্য। তিনি বুঝলেন এই ষোলো সোমবার করার ফল তিনি এভাবে পেলেন। এরপর ফুলশয্যায় তাঁর স্ত্রী তাঁকে যখন জিজ্ঞাসা করলেন যে কেন হাতি তাঁকেই মালা পরালো, তখন তিনি ওই ব্রতের কথা জানালেন। রাজকন্যাও তখন এই ব্রত করলেন আর তাঁর একটি পুত্র সন্তান হল।

এই ভাবেই এই ব্রত লোকের থেকে লোকের মুখে মুখে ঘুরে ঘুরে আজ সবার দ্বারা পালন হয়ে থাকে। সকলে বিশ্বাস নিয়ে, আর নিষ্ঠা ভরে এই ব্রত করেন।

ব্রত পালনের নিয়মাবলী ■■

◆প্রথমে শিবলিঙ্গ স্থাপন করুন বাড়ির বা ঠাকুর ঘরের উত্তর মুখে।

◆একটি পাত্রে বেলপাতা, চাল, ফুল, ধূপ, চন্দন, কর্পূর সব রেখে দিন একসঙ্গে।

◆স্নান করে সাদা পোশাক পরে বসতে হবে শিবের পুজোয়। আর সন্ধ্যেবেলা ফের একবার জল ঢেলে তারপর খেতে হবে।

◆পারলে এই দিন শিবের অষ্টোত্তর শতনাম পাঠ করুন। দোকানে বই পেয়ে যাবেন।

◆এই দিন নুন ছাড়া খাবার খাওয়া উচিৎ। সেক্ষেত্রে ফল বা দুধ জাতীয় খাবার খাওয়াই ভালো।

◆◆আর এই ব্রত শুরু করা উচিৎ শ্রাবণ মাসে। তারপর তা না থামিয়ে ১৬টি সোমবার করা উচিৎ। এতে আপনার মনের ইচ্ছে অবশ্যই পূরণ হবে।

।।ওম নমঃ শিবায়।।

পঞ্চপাণ্ডব দ্বাপর যুগের শেষ প্রান্তে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কাছে প্রশ্ন করেন যে "কলিযুগ কেমন হবে"

একদিন পঞ্চপাণ্ডব দ্বাপর যুগের শেষ প্রান্তে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কাছে প্রশ্ন করেন যে
"কলিযুগ কেমন হবে" ?

#ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পরামর্শ দেন
পাঁচ ভাইকে এক জঙ্গলের ভেতর পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন পথ দিয়ে হেঁটে আবার তাঁর কাছে ফেরত আসতে । পাঁচ ভাই জঙ্গলের ভেতরে কি দেখলেন.....???

১) যুধিষ্ঠির ওই পথে হেঁটে যাওয়ার সময় একটা অদ্ভুত জিনিস লক্ষ্য করলেন -একটা হাতি কিন্তু তার দুটি শুঁড় ।
এই অদ্ভুত লক্ষ্যের কথা জানালেন শ্রীকৃষ্ণের কাছে ।

# উত্তরে: শ্রীকৃষ্ণ বলেন, "কলি,যুগের মানুষ হবে ঠিক এই রকম । তারা মুখে বলবে এক, কিন্তু তাদের কাজ গুলো হবে সম্পূর্ণ আলাদা ।"

২) ভীম দেখতে পেলেন,একটা গরু তার বাছুর কে আদর করছে চেটে চেটে,কিন্তু এত বেশি চাটছে যে বাছুরটির গায়ের ছাল উঠে গিয়ে রক্তপাত শুরু হয়েছে ।
ভীম এই কথাটা শ্রীকৃষ্ণের
কাছে জানালেন ।

# উত্তরেঃ শ্রীকৃষ্ণ বলেন, "কলি যুগের মাতা,পিতা হবে ঠিক এইরকম । মাতা,পিতার অন্ধ স্নেহ ও অতিরিক্ত ভালোবাসাই, তাদের সন্তানদের ক্ষতির কারণ হয়ে উঠবে। যেমন এতে সন্তানদের বিচার বুদ্ধিহীনতা ও পরনির্ভরশীল করে তুলবে। যা আগামীতে স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবন যাপনে তাদের
বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে।"

৩) # অর্জুন দেখতে পেলেন, একটি নদীতে একটি পচাগলা মৃত ছাগল আর ওই ছাগলের উপর বসে আছে একটা শকুন । কিন্তু ওই শকুনের ডানায় লেখা আছে বেদ মন্ত্র।

#উত্তরেঃ শ্রীকৃষ্ণ বলেন, "কলিযুগের কিছু ভন্ড সাধকেরা হবে ঠিক এই রকমের। অর্থাৎ দেশ ও সমাজের বুকে যাদের ধার্মিক ও জ্ঞানী হিসেবে খ্যাতি থাকবে, কিন্তু তাদের প্রকৃত
মানসিকতা হবে শকুনের ন্যায় ।"

৪) # নকুল দেখতে পেলেন, যে এক বিশালাকার পাথরের খন্ড পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়ছে, কিন্তু কোন বিশালবৃক্ষ তাকে আটকাতেই পারছে না । অবশেষে সামান্য একটা দুল্পা(গুল্ম) গাছের তলায় এসে আটকে যায় ।"

#উত্তরেঃ শ্রীকৃষ্ণ বলেন,
"কলিযুগের মানুষের পাপের পরিমাণ বেড়ে হবে ওই পাথরের সমান। কিন্তু কোনো মানুষ যদি এই হরিনাম রূপী দুল্পা গাছটিকে ধরতে পারে, তাহলে সর্ব বিপদ থেকে রক্ষা পাবে ।"

৫) সহদেব দেখতে পেলেন একটা বিশাল গভীর কূয়া ।
কিন্তু অবাক হয়ে দেখলেন ওই কূয়ার শেষ প্রান্তে বিন্দুমাত্র জল নেই।

#উত্তরেঃ শ্রীকৃষ্ণ বলেন, "কলিযুগের কিছু বাড়ি হবে বিশাল আকৃতির ও মানুষের ধনসম্পত্তি থাকবে ওই গভীর কূয়ার সমান কিন্তু ওই বাড়ি ও ধনসম্পত্তি মালিকের মধ্যে থাকবেনা বিন্দু মাত্র সুখ।"

(একটু লক্ষ্য করে দেখুন,,,বাস্তবে কিন্তু তাই ঘটছে ।)

আমরা কি সত্যিই সর্বশ্রেষ্ঠ জীব

আমরা কি সত্যিই সর্বশ্রেষ্ঠ জীব ????

যদি তাই হয় তাহলে একটি পাখি যেটি পারে আমরা তা পারি না কেন??

🙏এক চড়ুই পাখির পরম বিশ্বাসের গল্প🙏

️কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ শুরু হবে। কুরু পাণ্ডবদের বিশাল অশ্বারোহী বাহিনী সহজে যাতে চলাচল করতে পারে তার জন্য বহু গাছ উপড়ে ফেলার কাজ চলছে । হাতির সাহায্যে এখন সেই গাছ সরিয়ে জমি পরিষ্কার করা হচ্ছে । চারিদিকে সাজো সাজো রব! এই রকম একটি গাছে পরম নিশ্চিন্তে এক চড়ুই পাখি ও তার চারটি ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে বাস করত । যুদ্ধের খবর নিয়ে তাদের কি দরকার । ছাপোষা । কিন্তু ভাগ্যের কি পরিহাস, রাজ পরিবারের এক হাতি, চড়ুই ও তার চার সন্তানদের ঠিকানা ঐ গাছটিকে উপড়ে ফেলল! উড়তে শেখে নি তখনও চড়ুইয়ের বাচ্চাগুলি , বাসা সমেত মাটিতে আছড়ে পড়ল কিন্তু অলৌকিকভাবে তারা বেঁচে গেল! দুর্বল ও ভীত চড়ুই তার সন্তানদের জীবন বিপন্ন বুঝতে পেরে চারপাশে সাহায্যের জন্য তাকাল । রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয় আর উলু খাগরাদের প্রাণ যায়! কেউ কি তাদের এই সমূহ বিপদে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে ? ঠিক তখনই অর্জুনকে সঙ্গে নিয়ে কৃষ্ণের সেখানে আবির্ভাব ঘটলো ! ওরা যুদ্ধক্ষেত্রটি পরীক্ষা করতে বেড়িয়ে ছিল । সেই সঙ্গে যুদ্ধের রণকৌশল আর একবার ঝালিয়ে নেওয়া । ভীত চড়ুই প্রাণপণে তার সমস্ত শক্তি দিয়ে কৃষ্ণের রথের কাছে উড়ে এসে বসল । "হে প্রভু, আমার সন্তানদের আপনি বাঁচান । এই যুদ্ধ শুরু হওয়া মাত্রই তারা পিষ্ট হবে ।" প্রভুর কাছে সন্তানদের জন্য আকুতি ঝরে পড়লো মায়ের । প্রভু বললেন, "তোমার কথা শুনলাম, কিন্তু প্রকৃতির বিরুদ্ধে তো আমি যেতে পারি না ।"
চড়ুই তার উত্তরে বলল ,"হে প্রভু, আপনি আমার ত্রাণকর্তা, আমার বাচ্চাদের ভাগ্য আপনার হাতে , তাদের জীবন, মৃত্যুর নিয়ন্তা আপনি ।" সাধারণ মানুষ যেমন সবকিছুই তার নিয়তির উপর ছেড়ে সময়ের অপেক্ষায় হাতে হাত রেখে বসে থাকে অনেকটা সেই মতো কৃষ্ণ বললেন, "কালচক্র নিরন্তর তার নিজের নিয়ম মেনে ঘুরে চলেছে, তাঁর এই ব্যাপারে কিছুই করার নেই ।" কিন্তু চড়ুই ছাড়বার পাত্রী নন চুড়ান্ত বিহ্বল হয়ে কৃষ্ণকে তার কাতর নিবেদন , "হে জগন্নাথ, আপনিই তো সেই কালচক্র, আমি আপনার শ্রী চরণে নিজেকে আত্মসমর্পণ করলাম ।" ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শুধু বললেন, "তুমি তিন হপ্তার খাবার মজুত কর ।" চড়ুই ও কৃষ্ণের এই বাক্যালাপ একেবারেই অবগত ছিলেন না অর্জুন। তিনি এসে হাতের ইশারায় উড়িয়ে দিলেন চড়ুইকে । স্মিতহাস্য কেশব দেখলেন চড়ুই কয়েক মিনিট মাথা নিচু করে থেকে উড়ে গেল আপন বাসায় ।
আজ কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের প্রথম দিন । কুরু, পাণ্ডব একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তাল ঠুকছে । পার্থসারথি রথটিকে নিয়ে ঠিক দুইয়ের মাঝে এসে দাঁড়ালেন। শঙ্খ ধ্বনি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর ঠিক আগে কৃষ্ণ অর্জুনের থেকে তার তীর ধনুক চেয়ে নিলেন । অর্জুন তো অবাক ! কেশব তো প্রতিজ্ঞাবধ্যে এই যুদ্ধে তিনি কোন অস্ত্রে হাত দেবেন না, কারোর উপর অস্ত্র প্রয়োগ করবেন না! পাশাপাশি অর্জুনের নিজের ধনুর্বিদ্যার প্রতি শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে সুপ্ত অহংকারও ছিল । অর্জুন বললেন, "প্রভু, আমাকে আপনি আদেশ করুন, আমি লক্ষ্য ভেদ করছি।" কৃষ্ণ অত্যন্ত নির্লিপ্ত ভাবে অর্জুনের ধনুক থেকে তীর ছুঁড়লেন সেই হাতিটিকে লক্ষ্য করে যে চড়ুইকে তার ঠিকানা ছাড়া করেছিল । হাতিটির গলায় বাঁধা ঘন্টায় তীর এসে লাগলো, হাতিটি অক্ষত রইল কিন্তু তার ঘন্টা গলা থেকে খোসে মাটিতে পড়ে গেল । কি আশ্চর্য, স্বয়ং প্রভুর লক্ষ্য চ্যুতি ঘটলো! অর্জুন বিস্ময় প্রকাশ করলেন ! হে কেশব, আমি চেষ্টা করবো ? কৃষ্ণ যথারীতি শান্ত ভাবে অর্জুনের কথার কোন উত্তর না দিয়ে তীর ধনুক অর্জুনকে ফিরিয়ে দিলেন । বললেন, "শঙ্খ ধ্বনি করো"। কুরুক্ষেত্রে সেই ভয়াবহ যুদ্ধ শুরু হল । আঠারো দিন ধরে চললো যুদ্ধ । বহু প্রাণহানির মধ্যে দিয়ে অবশেষে পাণ্ডবদের জয় হলো । চারিদিকে মৃত্যু মিছিল তাদের অন্তেষ্টির  অপেক্ষায় পড়ে আছে। এদিকে অর্জুনকে নিয়ে কৃষ্ণের রথ এগিয়ে চলেছে । কোথায় চলেছেন ভগবান? কৃষ্ণ একটি নির্দিষ্ট স্থানে এসে থামলেন । তাঁরই তূণের আঘাতে হাতির সেই মাটিতে পড়ে থাকা ঘন্টার দিকে অর্জুনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন। "অর্জুন, তুমি আমার জন্য এই ঘন্টাটা সরিয়ে দিতে পার?" বিস্মিত অর্জুন ভাবছেন, প্রভু আমাকে কি আদেশ করলেন! এই যুদ্ধ ক্ষেত্রে কত কি পড়ে রয়েছে, সব ছেড়ে এই অতি নগন্য ঘন্টাটা সরাতে বলছেন! কৃষ্ণ আবারো অর্জুনকে ঘন্টাটা সরিয়ে দিতে নির্দেশ দিলেন । অর্জুন আর কোনো প্রশ্ন না করে, ঘন্টাটা সরাতে উদ্যোগী হলেন । যে মূহুর্তে ঘন্টাটা তিনি সরালেন এই নিখিল ব্রহ্মাণ্ড ভগবানের এক অপারI  করুণা প্রত্যক্ষ করল : এক এক করে চারটে চড়ুইয়ের বাচ্চা ও তাদের মা ঐ ঘন্টার আড়াল থেকে বেরিয়ে প্রভুকে ঘিরে অপার্থিব আনন্দে আকাশে ঘুরতে লাগলো । আঠারো দিন ধরে ঐ ঘন্টা চড়ুই পরিবারের রক্ষা কবচ হয়ে ছিল!

একটি চড়ুই পাখি ভগবানের কাছে আত্মসমর্পণ করে নিজের ও তার সন্তানদের জীবন রক্ষা করতে পারে , আর আমরা সর্বশ্রেষ্ঠ জীব মানুষ হয়েও তা পারছি না ।
কারণ আমরা ভগবানের কাছে আত্মসমর্পণ করতেই পারি না বা চেষ্টাই করি না ।যদি তা পারতাম আমাদের এতো দুশ্চিন্তা থাকতো না ।

এখন আপনি স্বয়ং বিচার করুন ।

হরে কৃষ্ণ ।
জয় শ্রী শ্রী রাধা কৃষ্ণ ।

Thursday, April 30, 2020

কলি যুগ

কলি যুগ (দেবনাগরী: कलियुग [kəli juɡə], আক্ষরিকভাবে "কলির যুগ", বা "পাপের যুগ") হলো হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী, চার যুগের শেষ যুগ। অন্য যুগ গুলো হলো সত্য যুগ, ত্রেতা যুগ, ও দ্বাপর যুগ।

মাঘ মাসের শুক্ল পক্ষের পুর্ণিমা তিথিতে শুক্রবারে কলিযুগের উৎপত্তি। এর পরিমাণ ৪,৩২,০০০ বছর। পুণ্য এক ভাগ, পাপ তিন ভাগ। অবতার কল্কি। মানুষের আয়ু একশ বিশ বছর প্রায়। নিজের হাতে সাড়ে তিন হাত নিজের শরীরের আয়তন। প্রাণ অন্নে। তীর্থ গঙ্গা। সব পাত্র ব্যবহার করা হয়। ধর্ম সংকোচিত। মানুষ তপস্যাহীন, সত্য থেকে দূরে অবস্থানরত। রাজনীতি কুটিল। শাসক ধনলোভী। ব্রাহ্মণ শাস্ত্রহীন। পুরুষ স্ত্রীর অনুগত। পাপে অনুরক্ত। সৎ মানুষের কষ্ট বৃদ্ধি। দুষ্টের প্রভাব বৃদ্ধি। তারক ব্রহ্মনাম- হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে, হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।

'''বিষ্ণু পুরাণ''' অনুযায়ী ব্রহ্মা সত্যযুগে সমস্ত সৃষ্টিকর্ম করেন এবং কলিতে সমস্ত সৃষ্টি উপসংহার করেন।[৬] বিষ্ণু পুরাণ মতে কম ধনের অধিকারী হয়ে মানুষ এ যুগে বেশি গর্ব করবে। ধর্মের জন্য অর্থ খরচ করবে না। ধর্মগ্রন্থের প্রতি মানুষের আর্কষন থাকবে না। মাতাপিতাকে মানবে না। পুত্র পিতৃহত্যা বা পিতা পুত্র হত্যা করতে কুন্ঠিত হবে না। মানুষ বৈদিক ক্রিয়া আচার সমূহ করবে না। ধর্মানুসারে কেউ বিবাহিত থাকবে না। ধনহীন পতিকে স্ত্রীরা ত্যাগ করবে। আর ধনবান পুরুষরা সেই স্ত্রীগণের স্বামী হবে। কলিযুগে ধর্মের জন্য ব্যয় না করে কেবল গৃহাদি নির্মাণে অর্থ ব্যয় করবে। মানুষ পরকালের চিন্তা না করে কেবল অর্থ উর্পাজনের চিন্তাতেই নিরন্তর নিমগ্ন থাকবে। কলিযুগে নারীরা সাধারনতঃ স্বেচ্ছাচারিণী ও বিলাস উপকরণে অতিশয় অনুরাগিণী হবে এবং পুরুষরা অন্যায়ভাবে অর্থ উপার্জন করতে অভিলাষী হবে। সুহ্বদদের প্রার্থনাতে মানুষ নিজের অনুমাত্র স্বার্থ পরিত্যাগ করবেনা। অসমর্থ মানুষরা ধনহীন হয়ে নিরন্তর দুর্ভিক্ষ ও ক্লেশ ভোগ করবে। কলিকালে মানুষ স্নান না করে ভোজন করবে। কলিকালে স্ত্রীলোকরা নিতান্তই লোভী হবে, বহু ভোজনশীল হবে। স্ত্রীরা দুহাতে মাথা চুলকাতে চুলকাতে অনায়াসে পতি আজ্ঞা অবহেলা করবে। নিজের দেহ পোষণে ব্যস্ত থাকবে, নিরন্তন কঠোর ও মিথ্যা বাক্য বলবে। আচারহীন ব্রাহ্মণপুত্ররা ব্রহ্মচারীর বেশ ধারণ বেদ অধ্যয়ন করবে। গৃহস্থরা হোমাদি করবেন না এবং উচিত দানসমূহও প্রদান করবেন না। মানুষ অশাস্ত্রীয় তপস্যা করবে। কলিকালে ৮ থেকে ১০বছরের বালকেরা সহবাসে ৫ থেকে ৭বছর বয়সের বালিকারা সন্তান প্রসব করবে। মানুষের বুদ্ধি অতি অল্প ,তাঁদের ইন্দ্রিয় প্রবৃত্তি অতিশয় কুৎসিত, তাদের অন্তঃকরণ অতিশয় অপবিত্র হবে। আর অল্প কালেই বিনাশ লাভ করবে। যখন পাষন্ড লোকের প্রভাব অত্যন্ত বাড়বে, তখন সমাজের ভালো লোক কোন দায়িত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত থাকবে না। সজ্জনের হানি লক্ষিত হবে। অল্প বৃষ্টি হবে, কলিকালে ফসল কম হবে। মানুষ শ্বশুরের অনুগত হয়ে, কার মাতা কার পিতা এরকম কথা বলবে। সুন্দরী স্ত্রী যার তার সাথে বন্ধুত্ব হবে, নিজ ভাইয়ের সাথে শত্রুভাব পোষন করবে।[৭] ভাগবতে বলা আছে ছলনা মিথ্যা আলস্য নিদ্রা হিংসা দুঃখ শোক ভয় দীনতা প্রভৃতি হবে এযুগের বৈশিষ্ট্য। এই কলিযুগে কৃষ্ণনাম জপ ও কালীনাম ভজনাই সকলকে উদ্ধার করতে পারে। মনু সংহিতায় বলা হয়েছে যে সত্যযুগে তপস্যা, ত্রেতায়ুগে জ্ঞান, দ্বাপরয়ুগে যজ্ঞ এবং কলিতে দানই প্রধান হয়।[৮]

কলিযুগের অবতারসম্পাদনা

বুদ্ধ অবতার আশ্বিন মাসের শুক্লা দশমী তিথিতে জন্মগ্রহণ করেন । কল্কি অবতার কলিযুগের শেষের দিকে আর্বিভাব ঘটবে ।শম্ভল গ্রামে সুমতি নামে ব্রাহ্মণ কন্যার গর্ভে , বিষ্ণুযশা নামে ব্রাহ্মণের বাড়িতে , কল্কি নামে ভগবান বিষ্ণুর দশম অবতারের আর্বিভাব ঘটবে । কল্কি হবে বিষ্ণুযশা-সুমতির চতুর্থ সন্তান । বিষ্ণুযশা-সুমতির প্রথম তিন সন্তানের নাম হবে যথাক্রমে কবি, প্রাজ্ঞ আর সুমন্তক ।[৯]