Showing posts with label ভাগবত গীতা. Show all posts
Showing posts with label ভাগবত গীতা. Show all posts

Friday, May 1, 2020

গল্পকথা

"গাছের ডাল বহনকারী বৃদ্ধা"

শ্রীল প্রভুপাদের গল্পে উপদেশ

একদা এক জঙ্গলের মাঝে এক বৃদ্ধা মাথার উপর এক বোঝা জ্বালানী কাঠ নিয়ে একাকি হাঁটছিলেন।।। কিছুক্ষণ পরে তার মাথা থেকে বোঝাটি হঠাৎ করে নিচে পড়ে গেল।।। কিন্তু সে বোঝাটি তার মাথায় তুলতে অপারগ ছিল।।। সে তখন অবিরতভাবে কান্না করতে থাকল, আর উচ্চস্বরে ভগবান বিষ্ণুকে ডাকতে শুরু করল।।। বৃদ্ধাটি করুণ আর্তি ভরে ভগবানকে স্মরণ করতে লাগলো।।। ঠিক সেই মুহূর্তে ভগবান ঐ স্থানে উপস্থিত হলেন।।।
ভগবান- তুমি কি চাও???
বৃদ্ধা- দয়া করে এই বোঝাটি আমার মাথায় তুলে দাও।।।
ভগবান- কিন্তু আমি তোমাকে মুক্তি দান করতে পারি, এমনকি তোমাকে একটি ভিন্ন জগৎ দান করতে পারি আর তুমি কিনা শুধু এই লাঠির বোঝা তুলে নিতে চাও???
বৃদ্ধা- হ্যাঁ, শুধু আমাকে এই লাঠির বোঝা তুলে দিলেই চলবে।।।
হিতোপদেশ...."যখন ভগবান আমাদের আশির্বাদ দান করতে চান, তখন আমরা তার নিকট থেকে আরো বেশী জাগতিক জড় বস্তু যেমন সুখী পরিবার অনেক অর্থসহ আরও অনেক কিছু কামনা করি।।। যা আমাদের পাপভারে আরও ভারি করে। এই সকল জড় চাহিদাকে পরিহার করতেই হবে।।। চৈতন্য মহপ্রভু আমাদের এই শিক্ষাই দান করেছেন, যেন আমরা জন্ম-জন্মান্তর ধরে ভগবানের সেবাই করতে পারি।।।"
(হরে কৃষ্ণ)

আস্তিক-নাস্তিক

আস্তিক-নাস্তিক তারা দুই বন্ধু। একজন ভগবানে বিশ্বাসী অর্থাৎ আস্তিক, আরেকজন ভগবান বিশ্বাস করে না অর্থাৎ নাস্তিক। দুই বন্ধুতে  আবার ভীষণ ভাব,  হরিহর আত্মা আর কি!

একদিন আস্তিক বন্ধুটির ভীষণ মন খারাপ হলো। নাস্তিক বন্ধুটি বললো, "চলো বন্ধু জলসায় যাই। নৃত্য ও গীত উপভোগ করলে দেখবে এক নিমিশেই মন ভালো হয়ে গিয়েছে।"

কিন্তু আস্তিক বন্ধুটির এসব ভালো লাগতো না। তাই সে কৃষ্ণমন্দিরে গিয়ে আরতির সময় নেচে নেচে কীর্ত্তন করতে লাগলেন। আর নাস্তিক বন্ধু মনের সুখ খুঁজতে গেলো বাইজীর জলসা খানায়। সেখানে নাচ, মদ আর জুয়া খেলায় উন্মত্ত হয়ে রইলো।

অনেকক্ষণ পর দুই বন্ধু আবার একসাথে হলো। নাস্তিক বন্ধুটি জুয়া খেলে এক টোপলা স্বর্ণমুদ্রাও নিয়ে আসলো। আর আস্তিক বন্ধুটি আসার সময় পথে পায়ের তলায় পেরেকের আঘাতে পা রক্তাক্ত করে আসলো।

এমতাবস্থায় আস্তিক বন্ধুটি সব কিছু শুনে ভগবানের এমন লীলা খেলার উত্তর না পেয়ে, মন খারাপ করে বাড়ি চলে গেলো। মৃত্যুর পর পাপ-পূণ্যের হিসাব নিকাশের জন্য যখন যমালয়ে গেলেন তখন সেই প্রশ্নটির উত্তর আস্তিক ব্যক্তিটি জানতে চাইলেন। কেনো তাকে ভালো কাজের জন্য এমন কষ্ট পেতে হলো।

তখন যমরাজ হাসতে হাসতে উত্তর দিলেন, “আসলে আপাত দৃস্টিতে আমরা যা দেখি, অনেক সময় তা পারমার্থিক দৃষ্টিতে অন্য কিছু বোঝায়। তোমার বন্ধু সেদিন লটারীতে বিশাল বড় ধনী হতে যাচ্ছিলো। কিন্তু তার পাপ কর্মের জন্য সব হারিয়ে অল্প কিছু নিয়ে তাকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়। আর তোমার সেদিন মৃত্যুর কথা ছিলো। ভগবানের কীর্তন করার ফলে তোমার আয়ু বর্ধিত হয়। আর মৃত্যুর পরিবর্তে তিল পরিমান আঘাত পাও।"

এই দুঃখের ভবসাগরে আমাদের জীবনে কষ্ট আসতেই পারে। নিরাশ না হয়ে বুঝতে হবে আমাদের যা প্রাপ্য ভগবানের কৃপায় আমরা তার থেকে অনেক কম কষ্ট ভোগ করছি। ভগবানের জন্য নিবেদিত সেবা কখনোই বিফলে যায় না। শুধু বোঝার জন্য পারমার্থিক জ্ঞান দরকার, যা সবার থাকে না। আর অনেকের থাকলেও তা প্রয়োগের সময় পায় না স্থান, কাল, পাত্র আর পরিস্থিতির নির্ম্মম পরিহাসের স্বীকার হয়। তবুও আমাদের দমলে চলবে না। আমাদের মন সর্বদা সজাগ রেখে 'কৃষ্ণনাম' চিন্তা করলে, মন্দির তো আমাদের দেহই তৈরী হয়ে পড়বে।

পরমকরুনাময় গোলোকপতি সচ্চিদানন্দ ভগবান শ্রীকৃষ্ণর শ্রীচরণকমলে আমাদের নিরবধি প্রার্থনা, সকলের জীবন মঙ্গলময়, কল্যাণময়, শান্তিময়, ভক্তিময়, সুন্দরময় আর আনন্দময় হয়ে উঠুক।

"হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে,
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে!!"

কৃষ্ণ নাম

প্রশ্ন :- অনেকে বলে আত্মা যা চায় তাই খাও এত
বাছবিচার দরকার নেই, এরূপ কথার অর্থ কি ?
_
# উওর :- আত্মা যা চায় তাই খাও এরূপ কথার অর্থ
শুকরের মতো হও । শুকর খাদ্য-অখাদ্য বাছবিচার
না করেই ফলমূল,পঁচা,কাঁদা, মলমূত্রসহ পৃথিবীর
নোংরা সবকিছু খেয়ে চলে । একটা পাগল বিষ খেতে চায় বলে তাকে বিষ অনুমোদন করা কি ঠিক ? সনাতন ধর্মের অজানা প্রশ্ন ও উওর এরূপ কথার অর্থ
ভিত্তিহীন কেননা আত্মা খেতে চায় না ।
খেতে চায় দেহ । আত্মার খাদ্য কৃষ্ণনাম । যেহেতু আপনার মৃত্যুর পর আপনার সুন্দর দেহটির দাম পরপাড়ে শূণ্য আর সেটা স্বর্গে যাওয়ার উপযুক্ত নয় তাই আত্মার খাদ্য হরিনাম জপ করুন । ধরুন আপনি অর্নাস/ ইঞ্জিনিয়ারিং/ মেডিকেল
পড়ছেন ব্যস্ততার কারণে কৃষ্ণনাম নিতে পারেননি । হঠাত্দূর্ঘটনায় আপনার প্রাণ পাখি চলেগেল
তাহলে আপনার এই ২৫ থেকে ৩০ বছরের তপস্যা তো মাটি হলো সাথে পরপাড়ে নরক যন্ত্রনা ভোগ করতে হবে । তাই কাল বিলম্ব
না করে শাস্ত্রের নির্দেশে সঠিক খাদ্য গ্রহণ করুন ।
পড়া লেখার পাশাপাশি কৃষ্ণনাম করুন।
জয় জয় শ্রী কৃষ্ণ। ।

শ্রী কৃষ্ণ

-----------ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মহিমা।---------

সাধারনত কিছু মানুষ দেবতা ও ভগবানের পার্থক্য জানে না। ইন্দ্র, চন্দ্র, বরুন, শিব, দুর্গা,কালী প্রভৃতি দেবতাদের সঙ্গে বিষ্ণু, নারায়ন,শ্রীরাম, নৃসিংহ, বামন প্রভৃতি ভগবানের প্রকাশকে দেবতাদের সমপর্যায় ভুক্ত বলে মনে করে থাকেন। এটি আমাদের জানা উচিত যে, ভগবান ও দেবতার মধ্যে বিরাট পার্থক্য আছে।যেমন, দেবতারা হচ্ছেন ভগবানের নিযুক্ত এই জড়-জগতের বিভিন্ন
কার্যের নিয়ন্ত্রন কর্তা।যেভাবে অগ্নি দেবতা আগুনের নিয়ন্ত্রন করেন,বরুনদেব জলের নিয়ন্ত্রন করেন, পবনদেব বায়ু নিয়ন্ত্রন করেন, দুর্গা, কালী শক্তি নিয়ন্ত্রন করেন, লক্ষী, সরস্বতী ধন ও বিদ্যা নিয়ন্ত্রন করেন।

শাস্ত্র অনুসারে দেবতারা জীব তত্ত্ব। যে কোন জীব তার পুন্যকর্ম দ্বারা ভগবান থেকে বিশেষ শক্তিপ্রাপ্ত হয়ে দেবতার আসন গ্রহন করতে পারেন। কিন্ত ভগবান জীবতত্ত্ব নন তিনি বিষ্ণুতত্ত্ব। দেবতাদের আধিপত্য শুধু এই জড়-জগতে কিন্ত ভগবান জড়-জগত ও চিন্ময় জগত উভয়ই তার অধীন।
দেবতারা মানুষদের ভৌতিক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য দিতে পারেন কিন্তু জড়-বন্ধন থেকে মুক্তি দিতে পারেন না। কারন দেবতারাও তাদের মুক্তির জন্য ভগবানের কাছে অনুনয় করেন।প্রলয়কালে দেবতারাও অন্যান্য জীবের সাথে লয় প্রাপ্ত বা প্রভাবিত হন এবং তাদের ইন্দ্রলোক, চন্দ্রলোক ও স্বর্গলোক ধংসপ্রাপ্ত হয়। কিন্তু ভগবানের ধাম বৈকূন্ঠ, অযোধ্যা, গোলক-বৃন্দাবন কখনও ধংসপ্রাপ্ত হয় না।

দেবতারা ভগবানের ত্রিগুনের দ্বারা প্রভাবিত কিন্তু ভগবান গুনাতীত।বেদের মতে বিভিন্ন জাগতিক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বা বিভিন্ন ফল অতিসত্বর লাভ করার জন্য যে কেউ দেবতার উপাসনা করতে পারেন। কিন্ত সেটি বুদ্ধিমানের কাজ হবে না কারন জড়-জাগতিক ফল অনিত্য ও জড় বন্ধনের কারন। গীতায় দেবতা উপাসকদের অল্পবুদ্ধিসম্পন্ন বলা হয়েছে। তার সঙ্গে আমাদের এটাও জানতে হবে দেবতাগন ভগবানের অংশপ্রকাশ, নিজজন তাই তাদের পুজা বা শ্রদ্ধা করা উচিত। কিন্ত জীবের কর্তব্য হল ভগবানকে ভক্তি করা ও সেবা দ্বারা তাঁর আনন্দবিধান করা। তাহলে জীব ভগবানের সান্নিধ্যলাভ করবে এবং তার মুনষ্য জীবন সার্থক হবে।ব্রহ্মা বলেছেন,

”ঈস্বরঃ পরমঃ কৃষ্ণঃ সচ্চিদানন্দবিগ্রহঃ
অনাদিরাদির্গোবিন্দঃ সর্বকারনকারনম্।।" (ব্রহ্মসংহিতা -1) অনুবাদঃ সচ্চিদানন্দ বিগ্রহ গোবিন্দ কৃষ্ণই পরমেশ্বর। তিনি অনাদি, সকলের আদি এবং সকল কারনের কারন।

হরিবোল।।