Sunday, June 14, 2020

আমাদের শরীরের গঠন ও পুষ্টি সাধনের জন্য প্রোটিন তথা আমিষের প্রয়োজন সবথেকে বেশি । এই আমিষ দু ধরণের হতে পারে ।

আমাদের শরীরের গঠন ও পুষ্টি সাধনের জন্য প্রোটিন তথা আমিষের প্রয়োজন সবথেকে বেশি । এই আমিষ দু ধরণের হতে পারে ।

১। উদ্ভিজ্জ আমিষ

২। প্রাণীজ আমিষ

মসুর ডালে উদ্ভিজ্জ আমিষ বেশি পরিমানে থাকে । তাই একে গরিবের মাংস বলা হয়ে থাকে । কিন্তু শরীর গঠনের কাজে উদ্ভিজ্জ আমিষ এর ভূমিকা গৌণ!

অন্য দিকে প্রাণীজ আমিষের প্রধান উৎস হলো মাছ, মাংস ও ডিম্ । শরীর এর গঠন ও পুষ্টির জন্য এবং দেহের ক্ষয় পূরণের জন্য আমিষের প্রয়োজন। তাই প্রত্যহ আমাদের আমিষ গ্রহণ করতে হয়।

এবার আসি প্রতিদিন মাছ, মাংস, ডিম্ খাওয়ার বিষয়ে!

মাছে-ভাতে যে আমরা বাঙালি, তা ভুলে গেলে চলবে? আমাদের কয়েক পুরুষ আগের বাঙালিরা শুধু মাছ ভ্যাট খেয়েই এতটা বলিষ্ঠ ছিল, যে তাদের সেদিনের অনেক বীরত্ব গাঁথা আমরা এখনো লোকমুখে শুনে থাকি! প্রতিদিন না হলেও সপ্তাহে ৫ দিন মাছ খাওয়া যেতে পারে । মাছে রয়েছে প্রোটিন আর সেই সাথে ক্যান্সার সোহো বহু রোগ প্রতিরোধী ওমেগা-৩ নামক উপাদান। তাই প্রত্যহ মাছ খেলে সমস্যা নাই। তবে মাছের সোর্স অর্থাৎ যে মাছ খাচ্ছেন তা কথা থেকে আসছে সে বিষয়ে নজর দিতে হবে! যেমন বেশির ভাগ তেলাপিয়া বা নাইলোটিকা ও পাঙ্গাশ আন্টি-বায়োটিক ও রাসায়নিক উপাদান এর সাহায্যে দ্রুত বড় করে বাজারে এনে বিক্রি করা হয়। আর এসব মাছ খেলে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায় !

এবার আসি মাংসের কথায়! প্রতিদিন মাংস খাওয়া একেবারেই ঠিক নয়! খাবার থেকে সংক্রামিত হয় এমন ৮৫% রোগ মাংস থেকে আসে!

বেশি পরিমানে প্রাণীজ মাংস কিডনি রোগ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে! সপ্তাহে একদিন তাই যথেষ্ট !( আর যারা নিয়মিত জিম করেন তাদের কথা ভিন্ন! )

মাংসের উৎস সম্পর্কেও আমাদের খেয়াল করতে হবে!

পোল্ট্রি ফার্মের মুরগি গুলো

যে ফিড খেয়ে দ্রুত বড় হচ্ছে তাতে ভারী ধাতু মেশানো থাকে ! কারণ, এগুলো ট্যানারির বর্জ্য থেকে প্রস্তুত করা হয়! তাছাড়া , এইসব মুরগি ও ফার্মের গরুদের মোটাতাজা করতে আন্টি-বায়োটিক এত বেশি মাত্রায় ব্যবহার করা হয় যে এমনি এই সব মাংস খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করলে আপনার শরীরে পরবর্তীতে আন্টি-বায়োটিক কাজ নাও করতে পারে ! আগুনের তাপে কেবল ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয়, কিন্তু ভারী ধাতুর আণুবীক্ষণিক কোন, রাসায়নিক ধ্বংস হয়না! তাই মাংস খাবার ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি!

এবার আসি ডিমের কথায় ।

ডিম্ ও দুধের আসলে কোনো বিকল্প নাই! দুধ প্রত্যহ খাওয়া ভালো। আর ডিম্ ও ! তবে অতিরিক্ত নয় ! কারণ আমি কলেজ লাইফে দেখেছি আমার এক বন্ধু টিপুকে মাত্রাতিরিক্ত ডিম্ খাওয়ার জন্য স্বাস্থগত সমস্যায় পড়তে! তাই প্রতিদিন ১ টি ডিম্ যথেষ্ট !

প্রতিদিন তাহলে কি খেতে হবে?

প্রতিদিন বেশি বেশি শর্করা জাতীয় খাবার ও শাক-সবজি খেতে হবে ! শর্করা আমাদের কর্মশক্তি যোগায় আর শাক-সবজিতে আন্টি-অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সহ রয়েছে সর্ব রোগের প্রতিরোধক উপাদান 

No comments:

Post a Comment