Monday, May 11, 2020

তেঁতুল

তেঁতুল একটি টক জাতীয় ফল। তবে পাকা তেঁতুল
টক-মিষ্টি হয়ে থাকে। তেঁতুলের নাম শুনলেই
জিভে পানি আসে। নারীদের কাছে এর একটা
আলাদা সমাদর আছে। মুখের রুচি ফিরিয়ে আনতে,
সস হিসেবে এবং গর্ভবতী নারীরা মুখের বিস্বাদ
কাটাতে তেঁতুলকে আঙুলের ডগায় তুলে নেন।
তেঁতুলে রয়েছে প্রচুর ভেষজ ও পুষ্টিগুণ। প্রতি ১০০
গ্রাম পাকা তেঁতুলে মোট খনিজ পদার্থ ২.৯ গ্রাম,
খাদ্যশক্তি ২৮৩ কিলোক্যালরি, আমিষ ৩.১ গ্রাম,
চর্বি ০.১ গ্রাম, শর্করা ৬৬.৪ গ্রাম, ক্যালসিয়াম
১৭০ মিলিগ্রাম, আয়রন ১০.৯ মিলিগ্রাম,
ক্যারোটিন ৬০ মাইক্রোগ্রাম ও ভিটামিন সি ৩
মিলিগ্রাম, আরো থাকে এসকর্বিক অ্যাসিড।
অথচ এই তেঁতুল সম্পর্কে আমাদের মাঝে কিছু
বাজে কথা প্রচলিত আছে। অনেকেই বলে থাকেন,
তেঁতুল খেলে রক্ত পানি হয়ে যায়। বুদ্ধি কমে যায়।
আসলেই কি তাই? এক গবেষণায় দেখা গেছে,
তেঁতুল খেলে বুদ্ধি কমে না বরং বাড়ে।
তেঁতুলের এসকর্বিক অ্যাসিড খাবার থেকে আয়রন
আহরণ, সংরক্ষণ এবং তা বিভিন্ন কোষে পরিবহন
করে, যা মস্তিষ্কের জন্য খুব প্রয়োজন।মস্তিষ্কে
আয়রনের পর্যাপ্ত সরবরাহ চিন্তা ভাবনার গতি
বৃদ্ধি করে। আর তাইতো তেঁতুল খেলে বুদ্ধি বাড়ে।
এছাড়া তেঁতুল দেহে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে
এবং হৃদরোগীদের জন্য খুব উপকারী। রক্তে
কোলস্টেরল কমানোর কাজে তেঁতুলের আধুনিক
ব্যবহার হচ্ছে।
ভেষজবিদদের মতে, নিয়মিত তেঁতুল খেলে শরীরে
সহজে মেদ জমতে পারে না। এতে টারটারিক
অ্যাসিড থাকায় খাবার হজমে সহায়তা করে।
পেটের বায়ু, হাত-পা জ্বালায় তেঁতুলের শরবত খুব
উপকারী। যাদের পেটে গ্যাস জমে তারা রাতে
ঘুমাতে যাওয়ার আগে তেঁতুলের শবরত খেলে
পেটে গ্যাস জমা থেকে রক্ষা পাবেন। হাঁপানি
ও দাঁত ব্যথায় তেঁতুল গাছের ছাল চূর্ণের রস খেলে
উপশম পাওয়া যায়। তেঁতুল ওজন কমাতে সাহায্য
করে।
তেঁতুল দিয়ে কবিরাজি, আয়ুর্বেদীয়, হোমিও,
অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ তৈরি করা হয়।

No comments:

Post a Comment