💀 অঘোরী 💀
একটু সময় নিয়ে পড়ুন আশা করি ভালো লাগবে 😊😊
অঘোরপন্থা বা অঘোরী কথাটি শুনলেই সাধারণ মানুষ একটু ভ্রু কোচকান।
সাধারণ অর্থে অঘোরী বলতে আমরা যা বুঝি তা হল....... এক বিশাল দেহের মানুষ মাথায় জটাজূট পরিধানে কালো কাপড়, হাতে সর্বক্ষণ একটা নরকপাল(মাথার খুলি)এবং গৃহত্যাগী ও শ্মশানবাসী সন্ন্যাসী।
সাধারণ অর্থে আমরা এইটুকু বুঝলেও অঘোর বিষয়টা অনেক বৃহৎ ও কঠিন একটা পন্থা। যার অর্থ ব্যাখ্যা করা সাধারণ মানুষের অজ্ঞানতার একটা দিক বা মূর্খতার কারণ। স্বয়ং সদাশিব হলেন অঘোরী।
এবার বলি অঘোর কথার অর্থ কি?
সাধারণ অর্থে বা এক কথায় বলা যায়...... যার কোন ঘোর নেই বা যিনি কোন ঘোরে থাকেনা তিনিই অঘোর।
এবার বলি এই ঘোর মানে কি?
সাধারণত সংসারী মানুষ যেই মায়াজালে আবদ্ধ আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব বিষয়-আশয় টাকা পয়সা, খাদ্য খাবার শখ-আহ্লাদ এই সকল কিছুই মায়াজাল তথা ঘোর বস্তু যারা এই ঘোর থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পেরেছে তাদের জন্যই অঘোর পন্থা।
অঘোর (NON ROUNDING) থেকে অঘোরী (NON ROUNDER)। অর্থাৎ যারা সংসার জীবন এর আবর্তন চক্র থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পেরেছে বা আবর্তনহীনতা(ROUND INGLESSNESS) হতে পেরেছে তারাই অঘোরী। যারা জন্ম ও মরণ চক্রে আবর্তিত হতে চায় না এবং তারা খুব তাড়াতাড়ি পরমাত্মার সাথে মিলতে চায়।
পৃথিবী ও নিজের দেহের আকর্ষণ এবং মোহ থেকে মুক্ত রাখার জন্য অঘোরী রা নানাপ্রকার আচার অবলম্বন করে, তারমধ্যে..... নিজেকে প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে রাখা, সৌন্দর্যের সাথে সম্পর্ক না রাখার এমন কি অখাদ্যকেও খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা এদের আচার বিধির মধ্যে বা সাধন বিধির মধ্যে পড়ে। অর্থাৎ তামসিক পন্থা দিয়ে নিজের দেহের ও মনের সমস্ত পাপ মোহ ক্রোধ তামসিকতা দূর করা মানে কিছুটা কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার মতো।
এতক্ষণ যা বলছি তা ভেকধারী ভন্ড মানুষের সম্পর্কে নয় বরং উচ্চকোটি সাধক অঘোরীদের সম্পর্কে।
এই অঘোরীরা সাধারনত
শবমাংস বা মৃতমাংস গ্রহণ করে থাকে। সমাজের যাহা কিছু ফেলে দেওয়া হয় যা কিছু সমাজে ব্যবহার করা হয় না (Wasted) তা এরা নিজেদের কাজে লাগায়। যেমন মৃত মানুষকে শ্মশানে নিয়ে আসার পর তার পরনের কাপড় চোপড় এরা পরিধান করে। পশুপাখির মলমূত্র গ্রহণ করে শুধুমাত্র বেঁচে থাকার জন্য। এমনকি মৃত মানুষকে যদি জলে ফেলে দেওয়া হয় তা এরা গ্রহণ করে না কারন,সেই জলে মাছ আছে কীটপতঙ্গ আছে সেই শরীরটা তাদের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হবে, তাই ব্যবহৃত হওয়া জিনিস তারা গ্রহণ করবে না। তবে একমাত্র মানুষকে চিতার আগুনে দিলে তা আর কোন কাজে ব্যবহার হবে না তাই কেবলমাত্র সেই জলন্তচিতার মৃতশরীর তারা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। এছাড়াও এরা কোনো নিয়মের মধ্যে আবদ্ধ থাকতে চায় না।
এই শ্রেণীর সাধকেরা শ্মশান,দেবালয়,ভাগার ইত্যাদি পবিত্র বা অপবিত্র স্থানে নিজের ইষ্টের সাধনায় মগ্ন হতে পারে। কারণ এদের কাছে অপবিত্র বলে কিছুই হয়না। জগতে সংসার হলো সদাশিব ও শক্তির সৃষ্টি তাই তাতে অপবিত্র বলে কোন বিষয় বস্তু থাকতে পারে না।
বিভিন্ন স্থরের তন্ত্র সাধকেরা যেমন দশমহাবিদ্যা অথবা তাদের উপদেবী অপদেবী দের দ্বারা নিজের অভিচার ক্রিয়া সম্পন্ন করে অভিষ্ঠ লাভ করে
তবে এদের জগতে শিব ও শক্তি এই দুটোই সত্য তথা এই দুই হলো তাদের দেবতা।
অঘোরীদের সঙ্গে বামাচারী সাধকদের কিছুটা সাদৃশ্য আছে তবে সাধন পথ ও মন্ত্র তন্ত্র এক নয়।
এরা সাধারণত কৃষ্ণ বস্ত্র বা কালো কাপড় পরিধান করে কারণ কৃষ্ণবর্ণ বা কালো অন্ধকারের পথিক আবার অনেকে বলে অশুভর প্রতীক তবে এরা অন্ধকারের মধ্যেই আলোর সন্ধান করে এটাই হলো এদের বিশেষত্ব।
এরা সাধারণত দৈনিক যা ক্রিয়াকর্ম করে তা সকলই এদের সাধনার অঙ্গ। এদের বুদ্ধি কিছুটা শিশু তুল্য হয় এরা ভালো-মন্দ রুচি অরুচি নির্বিশেষে যা সামনে পায় তাই গ্রহণ করে।
কাপালিক সাধকের একটা ভাগ অঘোরী।
মৃত মানুষের মাংস ভক্ষণ থেকে শুরু করে..... মৃত মানুষের সঙ্গে শারীরিক ক্রিয়া, পশুপাখি বলি দিয়ে তা আরাধ্যাকে নিবেদন করে যদিও এসব কিছুই তাদের সাধনার এক একটা অঙ্গ।
মানুষের ভালো করার জন্য এই অঘোরী বিদ্যার প্রয়োগ এক চরম স্থান অধিকার করে।
উপমা হিসেবে বলি.....
কোন ব্যক্তির এক দুরারোগ্য রোগ হয়েছে doctor বলে দিয়েছে কোন ভাবেই সেই ব্যক্তি কে বাঁচানো সম্ভব নয় কারণ যেই রোগ তার মধ্যে ধরা পড়েছে তার শেষ পর্যায়ে মৃত্যু এবং কিছুদিনের মধ্যেই সেই ব্যক্তির মৃত্যু ঘটবে। কিন্তু কোন অঘোরী তার অঘোর বিদ্যা দিয়ে সেই ব্যক্তির দেহের ভেতরের রোগটিকে একটি মৃত শরীরে প্রবেশ করিয়ে সেই মৃত শরীর আগুনে পুড়িয়ে ফেলার মাধ্যমে রোগটি ধ্বংস করতে পারে।
আবার অঘোর বিদ্যা দ্বারা মানুষের অকল্যাণ সাধন করা যায় তথা মানুষের অনিষ্টও করা যায়। সে যাই হোক মানুষকে ভালোবাসা, মানুষের কল্যাণ করা একটি প্রকৃত সাধকের কর্তব্য তার অকল্যাণ করা নয়।
কেন এরা সাধন বিধিতে এই পথ (অপরিষ্কার অপরিচ্ছন্ন) বেছে নেয়??
ধরুন একটি বিশেষ স্থানে(ঈশ্বর দর্শন) যাওয়ার দুটি পথ আছে। তারমধ্যে একটি পথ আরামদায়ক ও উজ্জ্বল কিন্তু সেই পথে দূর বেশি তাতে সময় বেশি লাগে(বৈদিক,তান্ত্রিক, বৈষ্ণব ইত্যাদি ইত্যাদি)। অপরদিকে আরেকটি পথে সময় কম লাগে কিন্তু সেই পথটি অন্ধকার ও কর্দমাক্ত.......যারা সময় বাচানোর জন্য এই অন্ধকার অপরিচ্ছন্ন কাদামাখা পথটি বেছে নেয় তারাই অঘোরী। তাই এদের সাধন ক্রিয়ায় এইরূপ অবস্থা।
এরা সাধারণত শ্মশান, বন জঙ্গল, গাছের তলায় চিতাভস্ম মেখে নিজেদের সাধনায় মগ্ন থাকে। এবং এদের সাধন স্থলে একটি ধুনি জ্বলতে দেখা যায়। এবং এরা পিশাচসিদ্ধ হয
য়। সমস্ত পবিত্র পবিত্র আত্মারা এদের কাছে এদের সাধনায় মাথানত করতে বাধ্য হয় এবং সাধকের আদেশ পালন করে।
যাইহোক অঘোর বিদ্যা বা অঘোরী দের সম্পর্কে যাহা কিছু বলিনা কেন তা অতি সামান্য ও তুচ্ছ। এর অন্তর্নিহিত নিগূঢ় তথ্য ও ব্যাখ্যা আছে। এদের সাধন পথ ও বাইরে থেকে দেখলে যতটা সহজ মনে হয় ভেতর থেকে ততটা কঠিন ও পদে পদে বিপদ ভয়ানক।
No comments:
Post a Comment